অনলাইন বিজনেসের নামে করছে অনেকে প্রতারণা : চাই সুষ্ঠু সমাধান

29

করোনা মহামারীর প্রকটে চাকরি হারিয়েছে অনেকে। একটি জরিপে দেখা গেছে, করোনার লকডাউনের পর দেশে ৭০ শতাংশ মানুষ তাদের কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাই,এখন বাসায় বসে অনলাইনে বিজনেস করে কোনমতে বেঁচে আছে অনেকে।   ঘরে বসে বিভিন্ন পণ্য বেচাকেনা করছে অনলাইনের মাধ্যমে আর তাদের জীবিকা আহরণ করছে। কেননা করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত দেড় বছরের অধিক সময় স্তব্ধ রয়েছে গোটা বিশ্ব। ২০১৯ সালে চীনের উহান শহরে প্রথম এই ভাইরাস দেখা দিলেও এর প্রাদুর্ভাব দ্রুত গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২০ এর মার্চ মাসে বাংলাদেশে প্রথম সংক্রমণ দেখা যায়। গবেষণায় দেখা যায়,  এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে এবং সচেতন থাকতে হবে। দেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে, বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশের  সকল শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান ও অধিকাংশ কর্মসংস্থান। আর দেশকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে, যারা বিভিন্ন বেসরকারী কর্মসংস্থানে কাজ করতেন, তারাও আজ কর্মসংস্থানহীন।  আর যেসকল শিক্ষার্থী পার্টটাইম জব কিংবা টিউশন করে নিজে এবং পরিবার চালাত। দুর্ভাগ্যবশত, করোনার প্রকোপে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়, তারাও গৃহবন্ধি ও বেকার হয়ে হতাশায় ভুগছেন। করোনা মহামারি ভাইরাসের  সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মানুষ এখন  নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে চায় অনলাইনে। যেহেতু এখন অনলাইনে কেনাবেচার ফলে জনসমাগম এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। 

কিন্তু এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মানুষের সাথে অহরহ প্রতারণা করছে এবং নিয়মিত মানুষকে বিভিন্ন উপায়ে ঠকাচ্ছে। দেখা যায়, সাধারণত তারা নামে- বেনামে একটি ফেসবুক বিজনেস পেজ চালু করে এবং বিভিন্ন পন্যের প্রমোশন চালায়। তারা পেইজে বিভিন্ন প্রকার লোভনীয় অফার দেখায়। যার ফলশ্রুতিতে,  ক্রেতারা সহজেই তাদের লোভনীয় অফার দেখে এবং তাদের পাতানো ফাঁদে পা দেয় আর তাদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি এবং প্রতারণার শিকার হয়।

অনেক সময় দেখা যায়, ক্রেতাগন পণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেসা করলে, অসাধু ব্যবসায়ীরা বলে “ইনবক্সে আসুন” তারপর শুরু হয় প্রতারণার জাল বোনা। এমনকি তারা ফেসবুক আইডি পর্যন্ত হ্যাক করে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ আছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা তারা তাদের ব্যবসাতে বিশ্বাস যোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা বলে থাকে যে, পণ্য ডেলিভারির পর টাকা নেবে। কিন্তু পরে দেখা যায় পণ্য ডেলিভারি করে শর্ত আরোপ করে যে, টাকা দিয়ে পন্য আনবক্সিং করতে হবে। যার ফলে তারা টাকা হাতে পেতেই টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। পরে দেখা যায়, বাক্সটি ফাকা কিংবা নকল কিছু দেওয়া। 

 আবার অনেক সময় তারা লোভনীয়া  প্রমোশনাল বা বিজ্ঞাপন দিয়ে অগ্রিম  টাকা হাতিয়ে নেয় এবং অদৃশ্য হয়ে যায়। আবার অনেক সময় দেখা যায়, অনলাইনে পন্যের বিজ্ঞাপন চালানোর সময় ভালো এবং মানসম্মত জিনিস উপস্থাপন করে কিন্তু বাস্তবত  তারা ক্রেতাদের দৃষ্টি  আকর্ষণ ও বিশ্বাস অর্জন করে টাকা আদায় করে। কিন্তু পরে দেখা যায়, পন্য ডেলিভারির সময় পন্য দেওয়া হয় না। আবার অনেক সময় দেখা যায়, পণ্য প্রদান করলেও তা দেওয়া হয় নকল। প্রকৃতপক্ষে, যা দেখানো হয়েছিল তা দেওয়া হয়না।

আমরা বিশ্বায়নের যুগে বসবাস করছি অনলাইনে আমাদের জীবনকে অনেক সহজ এবং মসৃণ করে দিয়েছে। করোনার প্রকোপ থেকে বাঁচতে আমরা অনেকেই  বাসায় বসে অনলাইনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অর্ডার করতে পারি এবং সাশ্রয়ী মূল্যে সহজেই বাসায় হোম ডেলিভারি  পেতে পারি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য অহরহ প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা। আর এ সকল প্রতারক ব্যবসায়ীদের জন্য অনলাইন বিজনেস এর প্রতি ভোক্তাদের অনীহা আসতেছে এবং বিমুখ হয়ে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা এবং বিক্রেতা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ অনলাইন মার্কেট বা কর্মসংস্থান। যেখানে জাতির এ সংকটালগ্নে অনলাইন বিজনেস হতে পারে বেকারদের জন্য সম্ভাবনাময় বড় একটি কর্মসংস্থান এবং অনেক অসহায় কে করতে পারে উদ্যোক্তা এবং নারীদের করতে পারে স্বাবলম্বী।

করোনা মহামারী প্রকটের ফলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে এবং অভাবে দিন পার করছে অনেকে । আর চাকরিচ্যুত হয়েছেন অনেকে। চাকরিচ্যুত এবং অভাবগ্রস্থ  জনগোষ্ঠীর একদল লোক এর সাথে জড়িত বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাই, করোনার  এই চরম বিপর্যস্ত  পরিস্থিতিতে জাতির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সঠিক ও সময়োপযোগী সুষ্ঠপরিকল্পনার মধ্যে দিয়ে কীভাবে অনলাইন বিজনেস এর প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচানো যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে। কেননা, জাতির এ সংকটালগ্নে অনলাইন বিজনেস হতে পারে তারুণ্য এবং বেকারদের জন্য সম্ভাবনাময় বড় একটি কর্মসংস্থান এবং অনেক অসহায় কে করতে পারে উদ্যোক্তা এবং নারীদের করতে পারে স্বাবলম্বী। তারুণ্যের জয়গান নিয়ে এগিয়ে যাবে এই দেশ। কেননা, তারুণ্যে হচ্ছে এদেশের প্রাণ এদেশের শক্তি।  

লেখক : সিরাজুল হোসাইন (শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ ,ঢাকা কলেজ, ঢাকা)।