আসছে ভাই! বেপরোয়া কিলার বাহিনী

1137

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশ-বিদেশের তোলপাড় করা খবর প্রতিদিন মিডিয়ার শিরোনাম হয়। তেমনি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আলোরন সৃষ্টি হয় ক্যাসিনো কান্ডের। আটক করা হয় আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভুইয়া, জিকে শামীমসহ অনেক প্রভাবশালীদের। রিমান্ডে বেরিয়ে আসা তাদের নানা অপকর্ম নিয়ে চলে আলোড়ন। তাদের অপকান্ডের ভয়াবহ চিত্র প্রতিদিন খবরের হেড লাইন হতে থাকে। প্রতিদিন তাদের অপকান্ড ও অবৈধ অর্থসম্পদের ভয়াবহ চিত্র নিয়ে মিডিয়ায় প্রচার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে বিচারের অগ্রগতি এখন হিমঘরে।

সেই সমস্ত ভয়ঙ্কর সব অপরাধীরা কেউ কেউ কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়েও গেছেন। তাঁরা হলেন মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক (ডাইরেক্টর ইনচার্জ) লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম (ফিরোজ)। জামিন হয়েছিল খালেদ-জিকে শামীমের : সর্বশেষ অস্ত্র মামলায়ও জামিন দেয়া হয়েছিল আলোচিত যুবলীগ নেতা জি কে শামীমকে। দুই মামলায় ২০২০ সালের ৪ ও ৬ ফেব্রুয়ারি জামিন লাভের পর তার কারামুক্তিও ছিল চূড়ান্ত। কিন্তু সেই গোপন জামিনের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারণা শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ‘নাম বিভ্রাট’ হয়েছে দাবি করে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ ২০২০ সালের ৮ মার্চ জামিন বাতিল করে।

প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থেকে দুর্নীতি করা ভয়ঙ্কর অপরাধীদের বিচার না হওয়ায় অপরাধ ঘটনা বেড়ে যায়। প্রশ্ন হচ্ছে শুধুই কী ঢাকঢোল পিটিয়ে গ্রেফতার করে ‘প্রচারণায়’ বাহবা নেয়া! ওদের বিচার শুরু হবে কবে? ওদের মত অপরাধীদের বিচার না হওয়ায় রিজেন্টের মালিক প্রতারক সাহেদ করিমরা সাংবাদিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হুমকি দিয়ে বলতে পারে, ‘আমি মুক্তি পেলেই আওয়ামী লীগের বড় নেতা হবো এবং এক সময় মন্ত্রীও হবো তখন তোদের দেখে নেবো। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ভয়ঙ্কর আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী খালেদ মাহমুদ বিভিন্ন মামলায় জামিন নিয়েছেন। ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পরিচালিত অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হয় খালেদ। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, মানি লন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বেশ কয়েকটি মামলা হয়। মানি লন্ডারিংয়ের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে প্রায় চার শ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বিদেশে পাচারের তথ্য পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ সব কাহিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টায় সরাসরি জড়িত ছিলেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তবে মৃত দেখিয়ে অভিযোগপত্র থেকে তার নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, খালেদ মারা যাননি। সেই খালেদ যুবদল থেকে হয়ে যায় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ক্যাসিনো-কাণ্ডে গ্রেফতার হাওয়ার পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য। ১৯৮৯ সালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে হামলা হয়। ওই হামলায় সরাসরি অংশ নেয় খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এ ঘটনার ৮ বছর পর অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে সেই অভিযোগপত্রে সূত্রাপুর থানার একটি হত্যা মামলার সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়, ‘খালেদ’ মারা গেছে। কখন, কীভাবে সে মারা গেছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি সেই অভিযোগপত্রে। এমনকি খালেদের পিতার নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পাওয়া গেছে বলা হলেও অভিযোগপত্রে এসব তথ্য ছিলোনা। খালেদের দীর্ঘদিনের সহযোগী মোহাম্মদ আলীও গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ওই হামলায় খালেদ সরাসরি অংশ নিয়েছিলো। অভিযোগ ওঠে খালেদের বাবা মান্নান ভূঁইয়া ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান প্রভাবশালী আইনজীবী হাওয়ায় যোগসাজশ করে খালেদকে মৃত দেখিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির তৎকালীন এএসপি খালেকুজ্জামান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলা থেকেই নয়, একাধিক মামলা থেকে খালেদের নাম বাদ দেয়ার বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। ১৯৯৪ সালে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে খুন হন পলাশ। এই ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোচিত ছিল। ওই মামলায় আসামি হিসেবে খালেদের নাম ছিল। তদন্তে তার পিতার নাম এবং ঠিকানা না পাওয়ায় খালেদ ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী আইনজীবী বাবার কারণেই খালেদকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি।

২০০২ সালে বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসের ভাই মির্জা খোকনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন খালেদ। ২০১১ সালে মোহাম্মদপুরে ঢাকা মহানগর উত্তরে সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন বাবু ওরফে লীগ বাবু খুন হন। ঐ খুনের সঙ্গে খালেদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

যুবদল করা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভোল পাল্টে যুবলীগের রাজনীতিতে নাম লেখায়। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতার আশীর্বাদ পেয়ে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির মাধ্যমে যুবলীগের ক্ষমতাধর নেতা হয়ে ওঠেন খালেদ মাহমুদ। ২০১৩ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগে ইসমাইল হোসেন সম্রাট সভাপতি ও খালেদ সাংগঠনিক সম্পাদক হয়। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সে যুবলীগে পদ পায়। তারপর থেকে সে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। শাহজাহানপুর, মতিঝিল, খিলগাঁও, সবুজবাগ, রামপুরা ও রমনা এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে ওঠে। শাজাহানপুর এলাকায় চলাচলরত গণপরিবহন থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করতেন। শাজাহানপুর ও কমলাপুর পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ, খিলগাঁও রেলক্রসিংয়ে বসা মাছের হাট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন তিনি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ওয়াসার ফকিরাপুল জোনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রতিষ্ঠানের টেন্ডারের নিয়ন্ত্রণ ছিল খালেদের।

খালেদ ফকিরাপুল ইয়াংমেনস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে থেকে ক্যাসিনো, মাদক ও জুয়ার আসর বসিয়ে প্রতিদিন হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। অবৈধ ব্যবসা ও রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগের জন্য তিনি দীর্ঘদিন অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করে আসছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুবাইয়ে আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। দুবাই ও সিঙ্গাপুরে জিসানের সঙ্গে যুবলীগ দক্ষিণের একজন শীর্ষ নেতাসহ খালেদকে চলাফেরা করতেও দেখেছে অনেকে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিঙ্গাপুরে হোটেল মেরিনা বে’তে জিসান, খালেদ ও যুবলীগের ওই শীর্ষ নেতার মধ্যে ক্যাসিনো এবং ঢাকার বিভিন্ন চাঁদার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে জিসান তাদের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়েই খালেদ ও যুবলীগের ঐ শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে যুবলীগের ওই শীর্ষ নেতাকে সরিয়ে দিতে একে-২২ রাইফেলসহ ভারী আগ্নেয়াস্ত্রও আনেন খালেদ। এসব অস্ত্র পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করে।
খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া জেলে বসেই তার অবৈধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করিয়েছেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের ১৫ জন কিলার দিয়ে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভয়ংকর ১৫ কিলার সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজও করেছেন। তাদের হাতেই রয়েছে খালেদের শতাধিক সব আগ্নেয়াস্ত্র। তারা আলোচিত সব হত্যা মামলার আসামি। এদের মাধ্যমেই খালেদ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তিন গাড়ি অস্ত্র থাকে তার বহরে। আমার দলে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর দরকার নাই। এরা দলকে, রাজনীতিকে কিছু দেয় না। এরা দলের বোঝা। সংশোধন না হলে জঙ্গিদের মতো তাদেরও দমন করব।

কিছুদিন এলাকার জনগণ শান্তিতে বসবাস করলেও খালেদ মাহমুদ খুব তারতারি জামিনে মুক্ত পাবে এমন খবরে আবারও খালেদের ক্যাডার বাহিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের ভাই আসছেন তাই ক্যাডার বাহিনি শাহজাহানপুর, মতিঝিল, খিলগাঁও, সবুজবাগ, রামপুরা ও রমনা এলাকায় মহড়া দিয়ে বেরাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে খালেদের মদদপুষ্ঠ কিছু সন্ত্রাসীরা।

দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, খালেদের প্রধান সহযোগীর নাম বেলাল হোসেন কিসলু ও রইছ উদ্দিন। মিথুন এবং টিটু খুনের অন্যতম আসামি তারা।
দুটি হত্যাকাণ্ডই ঘটে ২০০৫ সালে বনশ্রীর ক্রিস্টাল ক্যাবল নেটওয়ার্কের অফিসে। রনি ও সজিব নামের দুই ভাড়াটে কিলারও এই জোড়া হত্যা মামলার আসামি।
ক্যাবল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২০১৪ সালে মগবাজারে মাহবুবুর রহমান রানা হত্যার সঙ্গে জড়িত রইছ, রনি এবং সজিব। খালেদের আরেক সহযোগী ফখরুলও এই রানা হত্যায় জড়িত।
শাহাদাত হোসেন সাধু, রাসেল এবং সোহাগ নামে আরও তিন ভাড়াটে কিলার খালেদের দলে যোগ দিয়ে নগরীর ত্রাস হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এদিকে ২০১৩ সালে আলোচিত যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কী হত্যা মামলার তিন আসামিকে পুনবার্সিত করেছে খালেদ। এই তিনজন হলো- কাইল্যা আমিনুল, অঙ্কুর ও উজ্জল মোর্শেদ। তাদের কাছেও খালেদের অনেক অস্ত্র রয়েছে।

২০১০ সালে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ নেতা ডা. নিতাই হত্যা মামলার দুই আসামি কবির এবং পারভেজকে দলে ভিড়িয়েছে খালেদ।
কবিরের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

খালেদের আরেক সহযোগী পল্টি রিপন ২০০৭ সালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাওছার হত্যা মামলার আসামি। কাওছার হত্যায় সরাসরি খালেদ অংশগ্রহন করলেও মামলায় তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। কাওছার এবং খালেদ দুজনই ছিলো ফ্রিডম মানিকের অন্যতম সহযোগি । ফ্রিডম মানিকের আস্থাভাজন কাওছার এবং খালেদ দুইজনেই ছিলো অনেক কাছের । ফ্রিডম মানিকের কাছে একক আস্থাভাজন হাওয়ার জন্য এবং বিশ্বস্ত হাওয়ার জন্য খালেদ পরিকল্পিত ভাবে কাওছারকে হত্যা করে বলে জানা যায়।
আরেক সহযোগী সেলিম মহাখালীতে আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক হত্যা মামলার আসামি।

জানা যায়, খালেদের সঙ্গে দেখা করতে জেলখানায় তার আত্মীয় বা সহযোগীরা একাধিক গাড়ীবহর নিয়ে যান তাদের মাধ্যমেই নির্দেশনা দেন খালেদ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেল পুলিশ বলেন খালেদ জেলে থাকলে কি হবে সে বর্তমানে জেল পুলিশদের ডিউটি নির্ধারণ সহ বদলির কাজও করছে।

এদিকে জানা যায়, খালেদের দুইভাই মাসুদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও হাসান মাহমুদ ভূঁইয়া একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর কাছে নিয়মিত যাতায়াত করছেন। খালেদকে জেল থেকে জামিনে মুক্ত করার জন্য। অর্থপাচার মামলায় খালেদসহ তার দুইভাইকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দিয়েছিলো পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সেই মামলায় খালেদ মাহমুদসহ অভিযুক্ত অন্যরা হলেন খালিদের দুই ভাই মাসুদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও হাসান মাহমুদ ভূঁইয়া, সহযোগী হারুনুর রশিদ, শাহাদাত হোসেন উজ্জ্বল ও মোহাম্মদ উল্লাহ খান। অভিযুক্তদের মধ্যে খালেদ ও মোহাম্মদ উল্লাহ ছাড়া অন্যদের পলাতক দেখানো হয়েছিলো।