আসুন জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে এ সংকট মোকাবেলায় উদ্যোগী হই

5

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান আসুন আমরা জাতির এই চরম দুর্যোগপূর্ণ সময়ে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে এ সংকট মোকাবেলায় উদ্যোগী হই বলে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি অভিযোগ করে বলেন সরকারের উদাসীনতা, অগ্রাধিকার নির্ধারণে ইচ্ছাকৃত উপেক্ষা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অপকৌশল হিসেবে করোনা সংক্রমণের তথ্য গোপন ও সীমাহীন ব্যর্থতা আজ পুরো দেশকে এক বিপদ সঙ্কুল পথে নিয়ে চলেছে । তিনি বলেন, আসুন আমরা জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে এ সংকট মোকাবেলায় উদ্যোগী হই।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার করোনার প্রথম ঢেউয়ে সারাবিশ্বের কার্যকর লকডাউন পদ্ধতি অনুসরণ না করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এতে করে শহরের মানুষের ঘরমুখী ঢেউ পরিলক্ষিত হয়, কিছুদিন পরই গার্মেন্টস খুলে দিয়ে সেই গ্রামে চলে যাওয়া শ্রমিকদের ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। ২য় ঢেউয়ে সরকার আবার হঠাৎ করে লকডাউন/নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতেও জনগণ বিভ্রান্ত হয়ে হাটবাজার-রাস্তায় হুমড়ী খেয়ে পড়ে। এতে করে দেখা যাচ্ছে সরকার কোন বারই বিষয়টি সুপরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেয়নি। এতে করে ব্যবসায়ী/শ্রমিক সহ নিম্ন আয়ের মানুষগণ হতাশাগ্রস্থ হয়ে জীবিকার তাড়নায় মাঠে নেমে আসে।

করোনা টিকা ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত দেশে টিকা এসেছে ১ কোটি ২ লাখ ডোজ। তার মধ্যে ৩২ লাখ উপহার। ৭০ লাখ কিনেছে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে। ৩ কোটি টিকা কেনার কথা। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিমাসে ৫০ লাখ টিকা পাওয়ার কথা। জানুয়ারিতে ৫০ লাখ, ফেব্রু য়ারিতে ২০ লাখ এসেছে। মার্চে কোন টিকা আসে নাই, কবে পরের চালান আসবে কেউ জানেন না। এ পর্যন্ত প্রায় ৫৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের করোনা মহামারী দমনে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলার বিকল্প নাই। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা গেলে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলা সম্ভব। এক্ষেত্রে একটি উৎস থেকে টিকা সংগ্রহে আবদ্ধ না থেকে GAVI- এর সহায়তায় অন্য কোম্পানীর টিকা যেমন জনসন, মর্ডানা, ফাইজার ইত্যাদি সংগ্রহের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, জাতির এই চরম দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আমরা জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম খাত আরএমজি সেক্টরে কয়েক হাজার গামেন্টস বন্ধ হয়েছে। ৪০ লক্ষ শ্রমিকের জীবন জীবিকা আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যেই দশ লক্ষ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে। অর্থের অভাবে ঢাকা ছাড়ছে শত শত পরিবার। তাই সরকারের প্রতি আমাদের আবারও আহ্বান আসুন আমরা জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে এ সংকট মোকাবেলায় উদ্যোগী হই।