উত্তরাঞ্চলে বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক সৌন্দযের্যর সাদা বক

26

গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি: গাইবান্ধা জেলা সহ উত্তরাঞ্চলের জলাশ্বয় গুলো থেকে বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক সৌন্দযের্যর সাদা বক। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখন আর খাবারের সন্ধানে বিল-নদী জলাশ্বয়ে আসা সাদা বকের খুব বেশি আর দেখা মেলেনা এ অঞ্চলে।

বনভূমি উজার আর কিছু অসাধু পাখি শিকারীদের দৌরাত্ম্যে হারিয়ে যেতে বসেছে এই বক। অথচ আমাদের বাংলা কবিতা ও সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশাল জায়গা দখল করে আছে বিভিন্ন রকমের বক। কখনও মেঘাচ্ছন্ন আকাশে ঝাঁক বেঁধে উড়ে চলা, কখনও দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের সবুজ গালিচার সৌন্দযর্য বাড়িয়ে দিত ঝাঁকে ঝাঁকে এই সাদা বক। আবার কখনও দলবদ্ধ হয়ে উড়তে উড়তে একসময় মিশে যেত দূর আকাশ নিলীমায়। আর এই উড়ে যাওয়া মানেই প্রন্থান নয়। এক বিল থেকে অন্য বিলে অথবা দিন শেষে কোন বন কিম্বা বাঁশঝাড়ে নিজ নীড়ে ফিরে যেত এই বকগুলো।

প্রকৃতিক নান্দনিক পাখি বক, বকের কলরব এখন শুধুই স্মৃতি। আট প্রজাতির সাদা বকের মধ্যে আমাদের দেশে রয়েছে পাঁচ প্রজাতির সাদা বক। আকারে ৪৫ থেকে ১শথ ৫০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। পা ও লম্বা ঠোঁট ছাড়া এদের সারা দেহ সাদা পালকে আবৃত। নিষিদ্ধ হলেও কিছু অসাধু শিকারীর গুলি করে বক নিধন করছে, আবার কেউ ফাঁদ পেতে আবার কেউ কেউ পোষা বক দিয়ে বুনো বক ধরছে।

সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় কামদিয়া ইউনিয়নের চিয়ারগাঁও গ্রামের বিলে পাড়ে গাছ ও বাঁশ ঝাড়ে শীতের মৌসুমে অন্য দেশ থেকে সাদা বক,পানকাউর,মাছ রাঙ্গা,পাতি হাঁস সহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখি এসে বাসা বাঁধে।কালে পরিক্রমায় সেখানে ঝোপ-ঝাড় গাছ-পালা কেটে মানুষের বসতি করায় এখন আর দেখা মিলে না।

বষার্র শুরুতে জুলাই মাসে মাঝা মাঝি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষুখামার এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা মিলে হাজারো সাদা বক এর ঝাক খাদ্যের সন্ধানে মাঠে মাঠে পোকা-মাকড় খাচ্ছে। বক এর ঝাক দেখে পথ চারী ও আশে পাশের মানুষ অবাক চক্ষে তাকিয়ে তাদের কলোরব সৌন্দর্য উপভোগ করেন। বকের সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হয়ে ছবি তুলতে গেলে সাদা পালক ঝাপটে বকগুলো একটু একটু করে দূরে সরে যাচ্ছিল। মনে হলো পৃথিবীটা যেন একটু খানি বদলে যাচ্ছে। জলাবায়ু পরিবর্তন আর বনভূমি উজাড়ের কারণে বক যেন আমাদের জনবসতি থেকে অভিমানেই দুরে চলে গেছে।