একদিনের ব্যবধানে মুরগির দাম কেজিতে ১০০ টাকা কম

54

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার আরোপিত সাত দিনের সরকারি বিধিনিষেধ লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার ও পাকিস্তানী বা সোনালী মুরগির দাম কমেছে। তবে সবচেয়ে বেশি কমেছে সোনালী মুরগির দাম। একদিনের ব্যবধানে সোনালী মুরগির দাম কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, যাত্রাবাড়ী ও রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল (সোমবার) সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হয় ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা। তবে আজ বেশিরভাগ দোকানে সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায়। তবে যারা আগে কিনে রেখেছেন তারা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দাম চাচ্ছেন।

অন্যদিকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। তবে লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের মতো এই মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, লকডাউনের খবরে শনিবার ও রোববার ক্রেতারা বাড়তি পরিমাণে কেনাকাটা করেছেন। এখন বাজারে ক্রেতাদের চাপ কমে গেছে। এ কারণে দাম কমেছে কিন্তু দাম কমলেও এখন মুরগির বিক্রি কম। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামনে মুরগির দাম আরও কমতে পারে। আর এমনটি হলে খুচরা ব্যবসায়ীরা লোকসানের মধ্যে পড়বেন। ইতোমধ্যে কোনো কোনো ব্যবসায়ী লোকসান গুনছেন।

শান্তিনগর মুরগি ব্যবসায়ী সাদ্দাম বলেন, পাইকারিতে আজ সোনালী মুরগির দাম অনেক কমে গেছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সামনে দাম আরও কমবে। কারণ সাড়ে তিনশ টাকার সোনালী মুরগি এখন ২৪০ টাকা বিক্রি হলেও ক্রেতা কম। ১৬০ টাকার বয়লার মুরগি এখন ১৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে লকডাউন না থাকলে রোজার আগে মুরগির দাম বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, আজ দাম কমলেও বিক্রি নেই। এর কারণ দুইদিনে মানুষ অনেক কেনাকাটা করেছে। তাছাড়া লকডাউনের মেয়াদ বাড়তে পারে এমন আশঙ্কাও রয়েছে মানুষের মধ্যে। এসব কারণেই বিক্রি কমে গেছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে মুরগির দাম আরও কমে যাবে।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সোনালী মুরগির দাম এভাবে কমবে আমরা ধারণাও করতে পারিনি। চাহিদা কমার কারণে এভাবে দাম কমে গেছে। আর সোনালী মুরগির দাম কমার কারণে ব্রয়লার মুরগির দামও কমেছে। তবে লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আমাদের ধারণা লেয়ার মুরগির দামও কমে যাবে। কারণ আড়াইশ টাকায় সোনালী মুরগি বিক্রি হলে দুইশ টাকা দিয়ে কে লেয়ার মুরগি কিনবে?

যাত্রাবাড়ীর মুরগি ব্যবসায়ী লিটন শেখ বলেন, ‘এবার মুরগিতে বড় ‘ধরা’ খেয়েছি। কেজিতে একশ টাকা নেই হয়ে গেছে। তিনশ টাকার ওপরে কেনা সোনালী মুরগি এখন আড়াইশ টাকা বিক্রি করছি। অথচ গতকালও সাড়ে তিনশ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।’

তিনি বলেন, বাজারে এখন প্রতিযোগিতা অনেক। আজ যারা মুরগি কিনেছেন তারা সোনালী মুরগি আকার ভেদে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। প্রতিযোগিতায় টিকতে এখন লোকসানে মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ ক্রেতা যেখানে দাম কম পাবে, সেখানে চলে যাবে।