কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও নবীগঞ্জে পশুর হাট

15

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: সারাদেশের মতো হবিগঞ্জেও চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। এর মাঝেও নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জনতার বাজার পশুর হাটে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। এসময় তারা মানেননি কোনো স্বাস্থ্যবিধি।

জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘেঁষা নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এ পশুর হাটে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শনিবার ও সোমবার হাট বসে। শনিবার (৩ জুলাই) সরকারি কঠোর বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে জনতার বাজার পশুর হাটে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে কোরবানির পশু কেনাবেচা করতে আসেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এসময় সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলে কেনাবেচা। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখেই ছিল না মাস্ক। কারো কারো মুখে মাস্ক থাকলেও তা পকেটে বা থুতনিতে ঝুলছিল।

এছাড়া শুক্রবার (২ জুলাই) নবীগঞ্জ পৌর এলাকার ছালাতপুরেও পশুর হাট বসে। ওই হাটেও সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার দিনারপুর জনতার বাজার পশুর হাট দীর্ঘদিন ধরে ইজারা না দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চলছে। গত দুদিন ধরে নবীগঞ্জ সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে। অথচ এরমধ্যেও জনতার বাজার পশুর হাটে মাস্কবিহীন হাজারো মানুষের সমাগম হয়।

এ বিষয়ে দিনারপুর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তনুজ রায় বলেন, সরকার ও প্রশাসন বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সেখানে এরমধ্যে পশুর হাট বসা তাদের এ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ জানান, মাস্কবিহীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাছে এমন পশুর হাট বসানোর ফলে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মহিউদ্দিন জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজার পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে। কী কারণে তা মানা হচ্ছে না?- তা খতিয়ে দেখবেন বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, কঠোর বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপনে পশুর হাট নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা হয়নি। অন্যান্য বাজারের মতো পশুর হাট শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলতে পারবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের তৎপরতা রয়েছে।