কিংবদন্তি গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুর গুজব

14

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে কিংবদন্তি দেশবরেণ্য গণসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ বিষয়টি নিতান্তই গুজব বলে নিশ্চিত করেছেন শিল্পীর মেজো ছেলে মাসুক আলমগীর রাজীব। ফকির আলমগীর বর্তমানে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি আছেন।;

‘শুক্রবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফকির আলমগীরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরলে শিল্পীর মেজো ছেলে বলেন, বাবা আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন। ওনার যে প্লাজমা দরকার তা পাওয়া গেছে। আইসিইউতে থাকলেও চেতনা আছে। হাঁটাচলাও করতে পারছেন।;

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে আজ আমার ছোট চাচী মারা গেছেন ৷ আমার বাবার ছোট ভাই ফকির সিরাজ চাচার স্ত্রী। চাচীর মৃত্যুর খবরটিতেই হয়তো অনেকে আমার বাবাকে মিলিয়ে ফেলেছেন।;

‘গত বুধবার (১৪ জুলাই) ফকির আলমগীরের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) রাতে তাকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন।;

উল্লেখ্য, ‘ফকির আলমগীর একজন কণ্ঠযোদ্ধা। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ছিলেন। অবশ্য এর আগে ষাটের দশক থেকেই গণসংগীত গেয়ে আসছিলেন তিনি। ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে অসামান্য ভূমিকা রাখেন তিনি।;

‘স্বাধীনতার পর ফকির আলমগীর পপ ঘরানার গানে যুক্ত হন। পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে বাংলার লোকজ সুরের সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি বহু গান করেছেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করে।;