কুমারী পূজার আসনে মুসলিম কন্যা সাহেবা খাতুন

128

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অষ্টমীর সকালে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে মৃন্ময়ী মাতৃমূর্তির সামনে চিন্ময়ী রূপে পূজা পেল পাঁচ বছরের ‘সাহেবা খাতুন’। বুধবার ভারতের হুগলির চুচুড়ার এক আশ্রমে এ ঘটনা ঘটে। সাহেবার কুমারী মায়ের এই রূপ ম্লান করে দিল সকল সাম্প্রদায়িক বিভেদকে।

তবে এবারই প্রথম নয়, চুচুড়ায় ঝিঙেপাড়ার সারদা রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে এর আগেও মুসলিম সম্প্রদায়ের শিশুকন্যাকে কুমারী হিসাবে পূজা করা হয়েছে। সাহেবার আগে গত চার বছর ধরে তার বোনই কুমারীর আসনে বসেছিলো। খবর আনান্দবাজারের।

এ ঘটনায় আশ্রমের পক্ষ থেকে স্বামী দুর্গাত্মানন্দ মহারাজ জানিয়েছেন, রামকৃষ্ণের মতাদর্শে চালিত এই মঠ ভেদাভেদে বিশ্বাসী নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা রামকৃষ্ণের মতে পূজা করি। তাই ধর্মের বিভেদ করি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণে মহিষাসুর বিজয়ের পর দেবতারা মা দুর্গার বন্দনা করেছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের আশ্রমে কুমারীদের সেই মা দুর্গার কল্পনাতেই পূজা করা হয়। আমরা শ্রীরামকৃষ্ণের তত্ত্বের অনুসারী। ফলে কোনও ধর্মীয় ভেদাভেদ মেনে চলি না। আমাদের মঠে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে কাজ করে। এই কুমারী আজ আমাদের কাছে মা দুর্গা। অর্থাৎ মৃন্ময়ী প্রতিমার চিন্ময়ী রূপ।’

এদিকে আশ্রমের পূজায় মেয়েকে কুমারীর আসনে দেখে খুশি সাহেবার বাবা মুহাম্মদ আজহারউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘মেয়ের পাঁচ বছর বয়স হবে। আগে কুমারীপূজায় ওর বোনকে বসানো হত। এ বার আমার ছোট মেয়ে সে আসনে বসেছে।’