কেশবপুরে সরকারি গাছ আত্মসাতের চেষ্টা

10

উৎপল দে,কেশবপুর প্রতিনিধিঃ যশোরের কেশবপুরের চিংড়া বিষ্ণুপুর শেখপাড়া এলাকায় সরকারি রাস্তার পাশের একটি শিশু গাছ কর্তন করে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ৪০ নং বিষ্ণুপুর মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের ৫১৭ দাগের ১ একর ৫ শতক জমির উপর কাঁচা রাস্তার উপর একটি শিশু গাছ রয়েছে। বিষ্ণুপুর এলাকাটি প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় কৌশলে লক্ষাধিক টাকার ওই গাছটি মেরে আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত আজিজুর রহমান শেখের ছেলে বাবলুর রহমান শেখ ও লাভলুর রহমান শেখ। চিংড়া এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী আসাদুলের সাথে গাছ বিক্রয়ের চুক্তিবদ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার গাছ কাটা শুরু করে তারা। সরকারি হওয়ায় এলাকাবাসি গাছ কর্তনের বিষয়টি উপজেলা ভূমি অফিসে জানায়।

খবর পেয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানার নির্দেশে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ মারা বন্ধ করেন। এঘটনায় বৃহস্পতিবার ওই গ্রামের তোজাম্মেল হোসেন উপজেলা ভূমি অফিসের লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার স্থানীয় আমিন দিয়ে মাপামাপি করে গাছটি সরকারি সেটা নিশ্চিত করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস।এলাকাবাসী সরকারি ওই গাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিকট অনুরোধ জানান তারা।

এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ষাটোর্ধ আবুল শেখ বলেন, গাছটি কে রোপন করেছে জানিনা । দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে গাছটি দেখছি। সরকারি রাস্তার উপর থাকা সত্তেও বাবলু ও লাভলু গাছটি বিক্রি করে দিয়ে কাটা শুরু করে। এলাকার সার্ভেয়ার আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নির্দেশে ওই রাস্তার জমি মাপা হয়েছে। যে গাছটি কর্তন করা হয়েছে সেটি সরকারি রাস্তার জমির উপর মাঝামাঝি স্থানে রয়েছে। সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। গাছটি রাস্তার উপর কিনা সেটাও মেপে দেখা হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে একটি লিখিত প্রতিবেদন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানা বলেন, অভিযোগ পেয়েই গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। গাছটি সরকারি কিনা সেটা তদন্ত করে দেখা হয়েছে। গাছ কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।