গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন : ফেসবুক থেকে ভিডিও সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ

32

নিজস্ব প্রতিবেদক : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সরিয়ে নেয়া হয়েছে ‍কি-না তা জানতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এ বিষয়ে মূল আদেশ দেয়ার জন্য বেলা ২টার পর সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত।

এ-সংক্রান্ত বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে তা আমলে নিয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শমীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ স্বঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন।

আদালতে বিষয়টি নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও জেড আই খান পান্না। ভার্চুয়ালে সংযুক্ত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন।

শুনানিতে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আদালত। আদালত বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ না পেলে এমন জঘন্য ঘটনা আড়ালেই থেকে যেত।

অন্য এক মামলায় সংযুক্ত থাকা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন শুনানিতে বলেন, মাই লর্ড গতকাল রাতে আমি ফেসবুকে এ জঘন্য ঘটনার ভিডিও দেখেছি। এটি অত্যন্ত জঘন্য একটি ঘটনা। এ রূপ ঘটনা আগে কখনো দেখেনি। এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে ওই গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখেন স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা। এরপর গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তারা।

এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তারা বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। নির্যাতনের ঘটনার ৩৩ দিন পর ৯ জনকে আসামি করে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন নির্যাতিতা গৃহবধূ (৩৫)।

এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি বাদল এবং দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার ভোররাত পর্যন্ত র‌্যাব-১১-এর নিরবচ্ছিন্ন সাঁড়াশি অভিযানে বাদলকে ঢাকা হাইওয়ে এবং দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে রোববার বিকেল ৪টা এবং রাত ১১টায় অভিযান চালিয়ে একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তারা হলেন- একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়কৃঞ্চপুর গ্রামের খালপাড় এলাকার হারিদন ভূঁইয়া বাড়ির শেখ আহম্মদ দুলালের ছেলে মো. আব্দুর রহিম (২০) ও একই এলাকার মোহর আলী মুন্সি বাড়ির মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মো. রহমত উল্যাহ (৪১)।