ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, কোটি টাকার বাণিজ্য

13
নরসিংদীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ছবি : জনবাণী

নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকারের একের পর এক উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখলেও ক্রমেই গতিহীন হয়ে পড়ছে মহাসড়ক। যান চলাচলে বিশৃঙ্খলা আর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে জায়গা দখল করে ব্যবহারের ফলে নরসিংদীতে প্রায় সময়ই লেগে থাকে যানজট। বিশেষ করে শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা বাসস্ট্যান্ড সাধারণ যাত্রীদের জন্য দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। অবশ্য মহাসড়কের যানবাহন বৃদ্ধিকেও এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন অনেকেই।

এদিকে আজ ২৩ শে সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে দখলকৃত দোকানদারকে এই অবৈধ স্থাপনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, আমরা অসহায়। আমরা বাড়তি লাভের আশায় অধিক টাকা অগ্রীম দিয়ে রাস্তার পাশে এই দোকান নিয়েছি। শুনেছি আমাদের মালিকেরা হাইওয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে। অনেক আবার নিজেই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে দোকান সাজিয়ে বসে আছে।

নরসিংদীর মাধবদী থেকে রায়পুরা উপজেলার নারায়ণপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কমবেশি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। রীতিমতো দখলের মহোৎসব চলছে মহাসড়কের দু’পাশজুড়ে। নির্মাণ করা হয়েছে স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় ধরনের কাঠামো। তবে অস্থায়ী স্থাপনাই বেশি। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতারাই এই দখলবাজির সঙ্গে যুক্ত। দিন দিন দখলের মাত্রা বাড়লেও অবৈধ স্থাপনার কোন তালিকা নেই সড়ক ও জনপথ অধিদফতর বা মহাসড়ক বিভাগের হাতে। এছাড়া অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তির বিধান নেই আইনে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটও নেই সড়ক বিভাগের অধীনে। তাই বর্তমানে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে নরসিংদীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা।

সংশ্লিষ্টরা জানা, জেলখানার মোড়, শিবপুর ইটাখোলা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সড়ক দুর্ঘটনা, যানজটসহ যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার অন্যতম কারণ অবৈধ স্থাপনা। কিন্তু বারবার এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্ণপাত করেন না দখলদাররা। ভুক্তভোগিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বছরে মাত্র দুই বার ঈদের আগে ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘœ করতে মহাসড়কগুলোর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। ঈদ শেষে আবার আগের অবস্থা ফিরে আসে।

ভুক্তভোগিরা মনে করছেন, জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে একটু নজর দিলে মহাসড়ক অবৈধ দখলদারমুক্ত হবে। তাতে যানজটের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।