দুই কোটি মানুষকে পানির সুবিধা দেওয়া পাহাড় সমান কাজ :ওয়াসা এমডি

22

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ঢাকা ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেছেন, ‘২ কোটি মানুষকে পানির সুবিধা দেওয়া পাহাড় সমান কাজ’। ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা শহরে শতভাগ পয়োশোধনাগার তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, নগরীর পয়োশোধনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা ওয়াসা সুয়ারেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে। এ প্ল্যান অনুযায়ী (বাস্তবায়নের সুপারিশ) ২০৩০ সাল ধরা হলেও ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে শহরের শতভাগ পয়োসেবার আওতায় আনতে পাঁচটি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনে আয়োজিত বিগত ১০ বছরের ঢাকা ওয়াসার অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ঢাকা ওয়াসার এমডি।

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা ঢাকা মহানগরীতে দুই কোটির বেশি মানুষের ব্যবহারের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ করছে উল্লেখ করে প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ‘সংস্থাটি বর্তমানে প্রায় ২৪৫-২৫০ কোটি লিটার পানি চাহিদার বিপরীতে ২৬০-২৬৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করছে। এছাড়া ঢাকা ওয়াসা একটি ওয়াটার মাস্টারপ্ল্যান করেছে। এ প্ল্যানের সুপারিশ ২০৩০ সাল হলেও ২০২৪ সালের মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ ভূ-উপরিস্থ এবং ৩০ ভাগ ভূগর্ভস্থ পানির উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।’

ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে সাতটি সংস্থা। এজন্য বলা হচ্ছে, একক সংস্থার হাতে এটি দেয়ার জন্য। তবে ইতোমধ্যে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের হাতে তুলে দেয়ার জন্য প্রচেষ্টা চলছে।

ইতোমধ্যে দাশেরকান্দি পয়োশোধানাগার প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে উল্লেখ করে ওয়াসার এমডি বলেন, প্রকল্পটির ব্যয় তিন হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা ২০২১ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে। পাগলায় বিদ্যমান পয়োশোধনাগারটি ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উত্তরা ও মিরপুর এলাকার জন্য পৃথক দুটি পয়োশোধনাগার নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে অর্থ বরাদ্দ করেছে এবং তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এছাড়া রায়েরবাজার এলাকার জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তাকসিম এ খান বলেন, ‘সিস্টেম লস ৪০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা নেটওয়ার্ক ডিস্ট্রিবিউশন এরিয়া বা ডিএমএ গড়ে তুলছি। ঢাকা শহরে মোট ১৪৫টি ডিএমএ হবে। যার মধ্যে ৬৪টি ডিএমএ এরইমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো ঢাকা ডিএমএর আওতায় আসবে। তিনি বলেন, এ ধরনের নেটওয়ার্ক দক্ষিণ এশিয়াতে নেই।’

ঢাকা ওয়াসার এমডি বলেন, আমরা ডিজিটাল ওয়াসা, স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট করেছি এবং করব। আমরা সে পথে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পাম্পগুলো একটা কন্ট্রোলরুম থেকে ব্যবস্থাপনা করি। মানুষের বাসায় যে মিটার সেটা বাসায় গিয়ে দেখে আসতে হয়। আমরা সেটাকে ডিজিটাল করার চেষ্টা করছি। যাতে মিটার রিডিংটা ওয়েবের মাধ্যমে পাই। তাহলে এটাই হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম ডিজিটাল মিটার রিডিং পদ্ধতি।’

‘ওয়েবের মাধ্যমে মিটার রিডিং আমাদের আশপাশের কোনো শহরে নেই। এটা যদি আমরা করতে পারি তাহলে এটা হবে আমাদের বড় একটি অর্জন’, যোগ করেন তাকসিম এ খান।

মতবিনিময় সভায় ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।