দেশেই এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ‘রেড ম্যাঙ্গো’ আমের চাষ

14

মোঃ রুবেল হোসাইন: রেড ম্যাঙ্গো বা মিয়াজাকি-পৃথিবীর অন্য সব আমের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি সুস্বাদু ও মিষ্টি আম। শুধু সুস্বাদু নয়,দামিও বটে এটাকে রাজা বাদশাদের আম বলা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে একটি মিয়াজাকি আমের দাম প্রায় ৭০ ডলার বা ছয় হাজার টাকা। এই মিয়াজাতি একটি আমের গড় ওজন হয় প্রায় ৪০০-৫০০ গ্রাম। অর্থাৎ প্রতি ১০ গ্রাম আমের মূল্য পরে এক ডলারের মতো। মূলত এটি হলো জাপানি আম।

মিয়াজাকি বা রেড ম্যাঙ্গো বা এগ অব দ্য সান আমাদের এই বাংলাদেশে সূর্যডিম আম নামে পরিচিত। বিশ্বের এই সেরা ও দামি আমের উৎপাদন এবার প্রাথমিক ভাবে শুরু হয়েছে দেশেই। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ আমের পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সাফল্যও এসেছে এতে আশানোরুপ। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাকতেও শুরু করেছে এই রেড ম্যাঙ্গো বা মিয়াজাকি আম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মেহেদী মাসুদ জনবাণীকে জানান, জাপানিজ এই আম বা রেড ম্যাঙ্গো উৎপাদনে দেশ অচিরেই সফলতার মুখ দেখবে। শুধু আম উৎপাদন নয়, দিনে দিনে আরও অনেক ফল উৎপাদনে সফলতার উদাহরণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে এ দেশ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মো.মেহেদী মাসুদ বলেন, সূর্যডিম আম চাষে সারাদেশে কৃষকেরা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো-ফলের নতুন নতুন জাত দেশে সম্প্রসারণ করা। তিনি আরো জানান, থাইল্যান্ড থেকে আমরা আমের ১৪টি ভ্যারাইটি নিয়ে এসেছি। এরমধ্যে ২০১৬ সালে ১৫শ সূর্যডিম বা মিয়াজাকি জাতের আম দেশের ৭৫টি হর্টিকালচার সেন্টারে মাতৃবাগান হিসেবে রোপণ করার কাজটি সম্পন্য করি। প্রায় চার বছর পর রাজধানীর আসাদগেট, মাদারীপুরের মোস্তফাপুর, দিনাজপুর, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ও গাজীপুরের নুরবাগের হর্টিকালচার সেন্টারে ফল এসেছে এবং পেকেছে।

আমাদের দেশেই এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ‘রেড ম্যাঙ্গো’ আমের চাষ ৫০ শতাংশ গাছে ফল ধরেছে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মেহেদী মাসুদ বলেন, পাকলে এই আমের রং হয় লাল, পাকার আগে রং থাকে গোলাপি। দামি এই আমের চাষ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার। সেই লক্ষ্যে এক হাজার গাছের কলম করা হচ্ছে। এসব কলম চাষিদের কাছে বিতরণের পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফল পাওয়া গেছে। প্রতিটি সেন্টারে আরও বেশি গাছ লাগানো হবে। বিশেষ করে বাসা-বাড়ির ছাদে এই আমের গাছ লাগানোর ব্যাপারে আমরা উৎসাহী করছি। এখনও কলম বিক্রির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সূর্যডিম আমের চারা একশ টাকার বেশি হবে না।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকায় কৃষক হ্যাশিমং চৌধুরী প্রথমবারের মতো সূর্যডিম আম চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। ২০১৬ ও ১৭ সালে এ আমের চাষ শুরু করেন তিনি। ইতোমধ্যে তার ১২০টি গাছে আম ধরেছে। এ ছাড়া খুলনার ডুমুরিয়া ও রাজধানীর ছাদে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি সূর্যডিম আমের চাষ করেছেন।