পঞ্চগড়ে আইডিয়াল ক্লিনিক সিলগালাসহ জরিমানা

3

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে আইডিয়াল নামে একটি ক্লিনিককে লাইসেন্স না থাকা, প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল না থাকা, সার্বক্ষনিক একজন মেডিকেল অফিসার না থাকা এবং জনগণের সাথে চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণার দায়ে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শহরের তেতুঁলিয়া রোডের ডোকরোপাড়া এলাকায় আইডিয়াল নামের ওই ক্লিনিকের মালিক মো জাহিদ হোসেনকে এই অর্থদ- প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন। এ সময় সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম, পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মো আত্হার সিদ্দিকী, সদর থানার উপ-পরির্দশক মো শামসুজ্জোহা সরকার সহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জেলা শহরের আইডিয়াল নামের ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করা হলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক জাহিদ হোসেন ক্লিনিকের লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল দেখাতে ব্যর্থ হন। একই সাথে ক্লিনিকটিতে সার্বক্ষনিক একজন মেডিকেল অফিসার না থাকায় মেডিকেল প্রাকটিস এবং বেসরকারী ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ এর ৮ ধারা ভঙ্গের অপরাধে ৫ হাজার টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ২৭ এর ৫ উপধারা ভঙ্গের অপরাধে ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করা হয়। একই সাথে ক্লিনিকের যাবতীয় মালামাল জব্দ করে সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। একই সাথে ক্লিনিকের যাবতীয় দেখাশোনার দ্বায়িত্ব পঞ্চগড় জেলা প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনিষ্টক এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো সাইদুল ইসলামের হাতে দেয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে আরো জানা যায়, পরবর্তীতে ক্লিনিকের মালিক যখন ক্লিনিকের লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং সার্বক্ষনিক একজন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ করবেন কেবল তখনি আবেদন সাপেক্ষে সিভিল সার্জন অথবা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য ক্লিনিকটি খুলে দেওয়া হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজস্ট্রেট ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পঞ্চগড় শহরের আইডিয়াল নামের এই ক্লিনিককে লাইসেন্স না থাকা, প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল না থাকা, সার্বক্ষনিক একজন মেডিকেল অফিসার না থাকা এবং জনগণের সাথে চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণার দায়ে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধ ক্লিনিক পরিচালনাকারীদের আইনের আওতায় আনতে তালিকা তৈরী করা হয়েছে। প্রত্যেককে এই আইনের আওতায় আনা হবে। আগামীতে আমাদের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।