ফুলবাড়িয়ায় গৃহকর্মীর শিশুর সারা শরীর ব্লেডের আঘাত

23

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িযায় শিশু গৃহকর্মীর (৯) সারা শরীর ব্লেডের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করেছে আসমা আক্তার (৩৫) নামে গৃহকর্তী । এমনকি ব্লেড দিয়ে আঘাত করেছে গোপনাঙ্গেও। গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় ওই শিশু গৃহকর্মী ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। ওই গৃহকর্মী ওই উপজেলার বাসিন্দা।

গৃহকর্তী আসমা আক্তার (৩৫) উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের পানের ভিটা গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ মিয়ার মেয়ে।

আসমা আক্তার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। তিনি নগরীর চরপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। ওই ভাড়া বাসাতেই গত তিন মাস যাবত শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে আসছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলবাড়িয়া থানার এসআই জোতিষ চন্দ্র দেব।

তিনি বলেন, ওই শিশুকে রাতে তার পরিবারের লোকজন থানায় নিয়ে আসার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সকালে হাসপাতালে গিয়ে শিশুর পরিবারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি যেহেতু সদরের, তাই কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেখানেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

এ বিষয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর চাচা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বড় ভাইয়ের সংসারে অভাব অনটনের কারনে মাসিক এক হাজার টাকা বেতনে আনুমানিক তিন মাস আসমার বাসায় কাজে দেন। কাজে দেয়ার পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করত।

তিনি বলেন, এইভাবে তিন মাস নির্যাতন করার পর বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) নির্যাতনের সময় সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে গৃহকর্তী আসমা অন্য একজন মহিলা দিয়ে ওই দিন বিকাল ৫ টার দিতে ওই শিশুকে আমাদের বাড়ির পাশে ফেলে রেখে চলে যায়।

পরে বাড়ির আশপাশের লোকজন ওই শিশুকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানায়। পরিবারের লোকজন শিশুকে উদ্ধার করে প্রথমে ফুলবাড়িয়া থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশের সহায়তায় ওই শিশুকে ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন তার পরিবার।

তিনি আরও বলেন, গতকাল যখন ওই শিশুকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। তখন ওই শিশুর সমস্ত শরীরে ব্লেডের আঘাতের চিন্হ ছাড়াও বুকে এমকি গুপনাঙ্গেও ব্লেডের আঘাতের চিন্হ রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোন অভিযোগ দেয়নি। তবে, ফুলবাড়িয়া থানা থেকে বিষয়টি জানানোর রাতেই ওই মহিলাকে গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চালিয়েছি। তবে, তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।