ব্যাংকিং সেক্টরে দ্রুততম সেবায় অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডঃ এমডি মোহম্মদ শামস-উল-ইসলাম

19

এম এস মেহেদী হাসানঃ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে একমাত্র অগ্রণী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। পাওয়ার সেক্টরে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে। গ্রাহক ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান কন্টাক্ট উদ্যোগের সুফল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

এ স্বপ্নের বাস্তবায়নের লক্ষে অগ্রণী ব্যাংকে শতভাগ পরিশুদ্ধতা এসেছে। ব্যালেন্সশিট পরিচ্ছন্ন করে সামনে এগিয়েছে ব্যাংকটি। অবলোপনকৃত ঋণ ও খেলাপি ঋণ আদায়ে কর্মীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিপর্যস্ত আর্থিক অবস্থানে থাকা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংককে

সুচিন্তিত,সুপরিকল্পিত ও সুদুরপ্রসারী কর্মকান্ডের মাধ্যমে সেরা ব্যাংকের তালিকায় এনেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল-ইসলাম। তারই একান্ত আন্তরিকতা, সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শিক স্বপ্নের চেতনায় তিনি শীর্ষ সরকারী ব্যাংকের তালিকায় প্রথম স্থানে নেয়ার লক্ষে কঠোর পরিশ্রম করে অগ্রণীর পথে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছেন।

নিষ্ঠুর এক বাস্তবতা হলো তিনি এ ব্যাংকে যোগদানের পূর্বে এটি ছিলো ভংগুর আর্থিক পরিস্থিতিতে নিমজ্জিত। যখন এ ব্যাংকটির মুনাফা করার টার্গেট ছিলো মাত্র ১শ’ থেকে দেড় শ’ কোটি টাকা। এমনি এক অবস্থায় ঋণ আদায়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ৫৫৫ কোটি টাকায় নিয়ে আসেন।

মূলত এভাবে তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম ধাপ হিসেবে অগ্রণীর অগ্রযাত্রা হিসেবে ২০১৬ সালের আগস্টের পর থেকে ব্যাংকটিকে নিয়ে এসেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। গড়ে তুলেছেন শক্ত আর্থিক ভিতের উপর। সিটি গ্রুপ, বিএসআরএম, বসুন্ধরা, পিএইচপি, নোমান গ্রুপ, নিটল, কেডিএস, যমুনা, প্রাইম গ্রুপ, এসিআইয়ের মতো বড় বড় করপোরেট হাউজগুলো অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহক হয়েছে।

এর ফলে বিনিয়োগ ও ঋণ যেমন বেড়েছে তেমনিভাবে ব্যাংকের ব্যালেন্সশিটও সমৃদ্ধ হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য বেড়েছে। তারই প্রচেস্টায় ব্রুনাই থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের অর্থ আসছে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক রেমিট্যান্স আহরণে প্রথম স্থানে রয়েছে। একইভাবে ৯৫টি শাখার মধ্যে সবকটি অটোমেশনের আওতায় এসেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র অগ্রণী ব্যাংকই পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।

গ্রাহক ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান কন্টাক্ট উদ্যোগের সুফল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। ব্যাংকের প্রত্যেক কর্মকর্তাকে আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ ও আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়ায় সব ব্যাংকার একযোগে অগ্রণী ব্যাংককে এগিয়ে নেওয়ার কাজে সমানভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

গ্রামের শাখার আমানত গ্রামেই বিতরণ করার উদ্যোগ নেয়ায় অগ্রণী ব্যাংক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। গত ৩৫ বছর ধরে অগ্রণী ব্যাংকের এডি লাইসেন্স বাড়ানোর চিন্তা কেউ করেনি। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর এডি লাইসেন্স বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। নতুন এডি শাখা অগ্রণী ব্যাংকে যুক্ত হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে একমাত্র অগ্রণী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। পাওয়ার সেক্টরে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে।

বসুন্ধরা, সিটি গ্রুপের মতো বড় বড় করপোরেট হাউজগুলোকে অগ্রণী ব্যাংকে নিয়ে আসা বড় ধরনের সফলতা। পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই বড় করপোরেট হাউজগুলো অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহক হয়েছে। সবার আগে অগ্রণী ব্যাংক। এস্বপ্নের বাস্তবায়নের লক্ষে অগ্রণী ব্যাংকে শতভাগ পরিশুদ্ধতা এসেছে। ব্যালেন্সশিট পরিুছন্ন করে সামনে এগিয়েছে ব্যাংকটি। অবলোপনকৃত ঋণ ও খেলাপি ঋণ আদায়ে কর্মীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খবর ব্যাংক সূত্রের।

সূত্র জানায়, মাত্র ৩ বছরের ব্যবধানে আর্থিক সূচকে এগিয়ে দৃশ্যপট পাল্টিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক। ২০১৬ সালের আগষ্ট মাস পর্যন্ত ব্যাংকের সকল ব্যবসায়িক সূচক ছিল নিম্নমুখী। পাশাপাশি বিভিন্ন নেতিবাচক কার্যক্রমের কারণে ব্যাংকটি পড়েছিল ইমেজ সংকটে। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ৩ বছর আগে ছিল প্রায় ২৬ শতাংশ। বর্তমানে তা ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে লোকসানি শাখা ছিল ১৩১টি। বর্তমানে তা কমে ২১টিতে নেমেছে। এভাবেই সব সূচকে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সুদের হার ১ অংকে নামিয়ে এনেছে অগ্রণী ব্যাংক। এতে সুদ আয় কমলেও পরিচালন মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয় এ ব্যাংকটি। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৪ মাসের মধ্যে সব ব্যবসায়িক সূচকে বড় ধরনের উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হয় ব্যাংকটি। এরপর থেকে ক্রমশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাওয়া এ ব্যাংকটি সম্পর্কে জানা যায়, ডিসেম্বর ২০১৬-এ শ্রেনীবিন্যাসিত ঋণের হার ছিল ২৫.৫৯ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে এপ্রিল ২০১৯-এ শ্রেনীবিন্যাসিত ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ১৪.৪৬ শতাংশ। ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে নগদ সংরক্ষণের হারও বেড়েছে।

ব্যাংক সূত্রের তথ্য মতে, অগ্রণী ব্যাংকের আমানত ৪৭ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬৮ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা হয়েছে। যার প্রবৃদ্ধি শতকরা ৪৩ ভাগ। ঋণ ও অগ্রিম ২৫ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৩ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা হয়েছে। প্রবৃদ্ধি শতকরা ৭৩ ভাগ। পরিচালন মুনাফা ১৩১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০১৬, ১৭ ও ১৮ সালে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৫৫৫, ৮১৩ ও ৮৩২ কোটি টাকা। উল্লিখিত সময়ে অর্জিত মোট পুঞ্জীভূত পরিচালন মুনাফা ২ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। তিন বছরের প্রবৃদ্ধি শতকরা ৩২৪ ভাগ।

নীট সুদ আয় বৃদ্ধি-২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ব্যাংকের নীট সুদ আয় হয়েছে যথাক্রমে ৮৩ কোটি টাকা, ৪৩৫ কোটি টাকা ও ৮৯৪ কোটি টাকা। যা রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এসময় অর্জিত মোট পুঞ্জিভূত নীট সুদ আয়ের পরিমাণ ১,৪১২ কোটি টাকা। মোট সম্পদ বৃদ্ধি- ৬১,৬৮০ কোটি টাকা,থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩,৯১২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যার শতকরা প্রবৃদ্ধি ৩২ ভাগ। আমদানি বৃদ্ধি- ৭,০৬৫ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০,১১৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যার শতকরা প্রবৃদ্ধি ৪৪ ভাগ।

মোট পুঞ্জীভূত আমদানির পরিমাণ ৫৪,৪৮৫ কোটি টাকা। রপ্তানি বৃদ্ধি- ৪,৯২৯ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭,৩৯৬ কোটি টাকা। যার শতকরা প্রবৃদ্ধি ৫০ ভাগ। মোট পুঞ্জীভূত রপ্তানির পরিমাণ ২২,৮৪৭ কোটি টাকা। বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণে ১ম স্থান অধিকার করে- ৮,৫৪৬ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১২,০২২ কোটি টাকা। যার শতকরা প্রবৃদ্ধি ৪১ ভাগ। মোট পুঞ্জীভূত বৈদেশিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩৩,৯৩৩ কোটি টাকা।

পুঞ্জীভূত নগদ আদায় ১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা এবং নিয়মিতকরণসহ মোট পুঞ্জীভূত আদায় ৫ হাজার ৫ কোটি টাকা। এছাড়া সম্পদের প্রবৃদ্ধি শতকরা ৩২ ভাগ, আমদানি প্রবৃদ্ধি শতকরা ৪৪ ভাগ, রফতানি প্রবৃদ্ধি শতকরা ৫০ভাগ ও রেমিটেন্স প্রবৃদ্ধি শতকরা ৪১ ভাগ। বিশাল এ অর্জনের পেছনে পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

বিশেষ করে চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখতের সরাসরি নির্দেশনায় এ অর্জনের নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেন। অগ্রণী ব্যাংকে ডলার ও নগদ অর্থের কোনো সংকট নেই। রেমিটেন্স আহরণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক প্রথম স্থানে রয়েছে। এবার সার্বিক ব্যাংকিং খাতে ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স এসেছে; যা সর্বোচ্চ। অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রেমিটেন্সও ব্যাংকটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্পে অগ্রণী ব্যাংক এককভাবে ১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের একটি সমঝোতা ছিল। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, পদ্মা সেতুতে যদি কোনো ডলার লাগে এবং সেটা যদি অগ্রণী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চায়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতা করবে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সহযোগিতা ছাড়াই অগ্রণী ব্যাংক ১ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছে। এটা এ ব্যাংকের একটা বড় অর্জন।

ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে সূত্র জানায়, আগামীতে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা প্রদানের মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংক অব বাংলাদেশ ইমেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে অধিক ঋণ দেয়ার মাধ্যমে ডেভেলপমেন্ট ফর ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে অগ্রণী ব্যাংক।

এ ব্যাপারে জনবাণীর প্রতিবেদক জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল-ইসলাম তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানাধীন ব্যাংকটির শুধু আমি একজন কর্মকর্তা, আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই, কিন্তু কিছু অসাধু দৃষ্টচক্র আমাকে রাষ্ট্রের সেবক হিসেব কাজ করা থেকে বঞ্চিত করতে চায়, বিগত দিনের তুলনায় অগ্রণী ব্যাংক এখন অনেক এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ফর ইনক্লুসিভ সোসাইটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এ ব্যাংকটি।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে শুধু অগ্রণী ব্যাংকই দেশব্যাপী সব শাখায় রিয়েল টাইম অনলাইন সেবা দিচ্ছে। সারা দেশে ২ হাজার ১৯৭টি এটিএম বুথ ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদান করছে। সর্বোচ্চ সংখ্যক শাখার মাধ্যমে ই-জিপি লেনদেন সেবা দেয়া হচ্ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করা হয়েছে। কৃষি ও পল্লী ঋণ কার্যক্রম সহজীকরণ প্রকল্পের আওতায় অগ্রণী ব্যাংক এ-টুআই সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেছে। এ সফটওয়্যারটি জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশ থেকে মনোনীত হয়েছে। এ সফটওয়্যারটি অন্যান্য ব্যাংকেও পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।