ভোগান্তি যেন পিছু ছাড়ছে না সৌদি প্রবাসীদের

30

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনার কারণে দেশে এসে আটকেপড়া সৌদি প্রবাসীরা গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বিশেষ ফ্লাইটে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ফিরতি টিকিটের ক্ষেত্রে কয়েক দিন আগে টোকেন দেয়া ছাড়াও কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কিন্তু সঠিক তথ্য না পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ঢাকায় টিকিটের জন্য এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেকেই।

শনিবারও কারওয়ানবাজারের সৌদি এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ের সামনে টিকিটপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ জটলা দেখা গেছে। তাদেরই টিকিট দেয়া হচ্ছে যাদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ রয়েছে।

আগেরদিন শুক্রবার ছুটির দিনেও মতিঝিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বুকিং কাউন্টার এবং কারওয়ানবাজারে সৌদি এয়ারলাইন্সের বুকিং কাউন্টারের বাইরে কয়েকশ’ যাত্রীর ভিড় দেখা গেছে। তবে গত সপ্তাহের মতো এদিন কোনো মিছিল-হট্টগোল হয়নি।

একই শর্তপূরণকারীদের শুক্রবার টিকিট দিয়েছে মতিঝিলের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বুকিং কার্যালয়। গত ৫ থেকে ৮ এপ্রিলের ফিরতি টিকিটধারীদের টিকিট রি-ইস্যু করা হয়েছে। তবে যাদের ভিসার মেয়দ শেষ, কফিলের কাছ থেকে ছুটিও বাড়াতে পারেননি, তারা টোকেন থাকলেও টিকিট পাননি। আগের দিনগুলোর তুলনায় শুক্রবার কারওয়ানবাজার ও মতিঝিলে ভিড় কম থাকলেও ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না সৌদি প্রবাসীদের। তবে ছিল না বিক্ষোভ, হট্টগোল।

কারওয়ানবাজারে সোনারগাঁও হোটেলের ফটকের পাশে টাঙানো নোটিশে সৌদি এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ৪ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত টোকেন দেয়া হবে। টোকেনের জন্য শুক্রবার দুপুরেই প্রায় ৫০ জন প্রবাসী কর্মী লাইন ধরেন। তারা নিজেরাই কলমে লিখে সিরিয়াল নম্বর ঠিক করেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মো. বাহালুলের সিরিয়াল নম্বর ৪৭। তিনি বৃহস্পতিবার ঢাকায় এসেছেন টোকেনের জন্য। শুক্রবার এলাকার তিনজনকে নিয়ে লাইনের সিরিয়াল নিয়েছেন। আগামী দুই রাত সোনারগাঁও হোটেলের আশপাশে কাটিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন। বাহালুল জানালেন, আর বাড়ি যাবেন না। টোকেন পেলে টিকিট কেটে করোনা পরীক্ষা করে সৌদির বিমান ধরবেন।

তিনি জানান, গত বছরের অক্টোবরে ছয় মাসের ছুটিতে দেশে আসেন। ২৩ মার্চ ফিরতি বিমান ছিল। কিন্তু করোনায় বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ায় আটকা পড়েন। ৩০ মার্চ তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে। সৌদি সরকারের বাড়ানো তিন দফায় ছুটিতে তার ভিসা ও কাজে ফেরার সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেড়েছিল। কিন্তু টিকিট না পাওয়ায় যেতে পারেননি। কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক মাস ছুটি বাড়িয়েছেন। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে ফিরতে হবে। কিন্তু শেষ দিনের আশায় থাকতে চান না। যত দ্রুত সম্ভব কাজে ফিরতে চান।

তবে যারা এখনও ছুটি বাড়াতে পারেননি, তারা কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তাদের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও এ আশঙ্কা থেকে তারাও ভিড় করছেন এয়ারলাইন্স কার্যালয়ে। বিমান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শুধু টোকেনধারীদের পুলিশি তল্লাশির পর প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের পালা করে কাউন্টারে ভিসা, আকামা ও ছুটির মেয়াদ যাচাই-বাছাই করে দেয়া হচ্ছে টিকিট।

তবে টোকেন ছাড়াই অনেকেই লাইন ধরেন। তাদের একজন জানান, তার ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। ভিসা ও আকামার মেয়াদও শেষ। আকামা নবায়ন এবং ছুটির মেয়াদ (এপিট রি-এন্ট্রি) বাড়াতে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে নিয়োগকর্তা এর জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করেছেন।

সোনারগাঁও হোটেলের অভ্যন্তরে সৌদি এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ের সামনের চত্বরে শুক্রবারও ছিল শতাধিক টিকিটপ্রত্যাশীর ভিড়। আগের দিন দেখা হওয়া চাঁদপুরে কচুয়ার ফয়সালের সঙ্গে গতকালও কথা হয়। তিনি জানালেন, ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির কাগজ নিয়ে টোকেনের জন্য এসেছেন। দু’দিন অফিসের সামনে থাকবেন। বের হবেন না।

হোটেলের দেয়ালের বাইরে রাস্তায় অপেক্ষায় থাকা যশোরের শার্শার মো. মজনু জানালেন, তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ঘুরছেন। তখন টোকেন পাননি। এরপর সাত দিনে পাননি। টোকেন না থাকায় কাউন্টারে যেতে পারছেন না। তবে তার অনিশ্চয়তা কিছুটা কেটেছে। শুক্রবার কফিলের কাছ থেকে ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির চিঠি পেয়েছেন।