মধুখালীতে ব্যবসায়ী হত্যাকে কেন্দ্র করে বাড়ী ঘর ভাংচুর ও লুটপাট

5

মধুখালী ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের মাকড়াইল গ্রামের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া গত শনিবার প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়। এক সাক্ষাৎকারে নিহতোর বাবা হিরু মিয়া বলেন ওয়ালিদ হাসান মামুন এর নেতৃত্বে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

অন্য দিকে ওয়ালিদ হাসান মামুন এর মা দাবি করেন আমার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ। এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে আমার ছেলে জড়িত না। আমিও এই হত্যাকান্ডের প্রকৃত আসামিদের বিচার চাই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে যাচ্ছে অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুল বাশার ও হিরু মিয়ার সর্মথকরা।

উল্লেখ্য হাবিবুল বাশার ও ওয়ালিদ হাসান মামুন আপন চাচাতো ভাই। কামালদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তাদের মধ্যে হানাহানি চলে আসছে। এখানে উল্লেখ্য গত ৭ মে, (রমজান মাসে) তারাবি নামাজ শেষে সোহেল, রুবল ও নাসির বাড়ি ফিরছিল, এ সময় তারা চেয়ারম্যান হাবিবুল বাশারের ও হিরু মিয়ার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে আহত হয়।এই ঘটনা নিয়ে মধুখালী থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এ মামলার অন্যতম আসামি ছিল মৃত জাহাঙ্গীর মিয়া। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত শনিবার হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয় ।

এই হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে হাবিবুল বাসার ও হিরু মিয়ার সমর্থকরা লুটপাট ও ভাঙচুর চালাচ্ছে। ওয়ালিদ হাসান মামুন কে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক এই হত্যা মামলায় অহেতুক আসামি করা হয়েছে বলে অনেকে মত প্রকাশ করে। ইতিমধ্যে ওয়ালিদ হাসান মামুনের পরিবার সহ তার সমর্থিত কমপক্ষে ২০/৩০টি পরিবারের বাড়ি ঘর লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়েছে। নিয়ে গেছে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গরু, ছাগল, পিঁয়াজ, রসুন, টিভি, ফ্রিজ জালনা দরজা টিউইবয়েল, মটর ইত্যাদি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, তিনি বলেন এই হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে উক্ত পরিবারের থেকে কমপক্ষে এক কোটি টাকার মালামাল লুট ও ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। এলাকায় একদিকে চলছে শোকের মাতোয়ারা, অন্যদিকে চলছে লুটপাট। মাকড়াইল গ্রামটি এখন পুরুষশূন্য, সাধারণ জনগণের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে, রাতের আঁধারে চলছে লুটপাট।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমনথকর (মধুখালী সার্কেল ফরিদপুর) ও শহিদুল ইসলাম (অফিসার ইনচার্জ মধুখালী) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, আর কোন বাড়িঘর লুটপাট ভাঙচুর হবে না। তবে প্রকৃত খুনিদের বিচার হবে। তারা সবাইকে শান্ত থাকার জন্য আহবান করেন।