শ্রীপুরে রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা,’পচা-দুর্গন্ধ’

14

শ্রীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে মাত্র অধা কিলোমিটার দক্ষিণ এলাকার মানুষের বসবাস করতে হয় নাক-মুখ ঢেকে। শ্রীপুর টু কাপাসিয়া রোড দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের চলাচল করতে হয়।কিন্তু পথচারীদের নাক-মুখ ঢেকে চলতে হয়।

জানা গেছে, শ্রীপুর-কাপাসিয়া দুই উপজেলার মানুষের জন্য এই রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়রা জানান, বিগত তিন বছর ধরে শ্রীপুর পৌরসভার বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা এনে এখানে ফেলে যায়।আবর্জনার স্তূপ বোঝাই হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রাস্তায়। বৃষ্টি হলে রাস্তা জুড়ে ভাসতে থাকে পচা, দুর্গন্ধ আবর্জনা। আর এসব ময়লা-আবর্জনা শ্রীপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে এনে ফেলা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।সরেজমিনে দেখা যায় ওই এলাকায় শতশত মানুষেরা বসবাস করছে। স্থানীয়রা জানান, ভ্যান গাড়িতে করে আবর্জনা এনে ফেলতে দেখা যায়। কিন্তু এসব বিষয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পাইনা। এর কারণ এলাকার লোকজন সরল সোজা।দুর্গন্ধের কারণে পথচারীরা চলছে নাকে রুমাল চেপে।

শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার হুমায়ূন কবির প্রধান বলেন, এই পথ দিয়ে প্রতিদিন যাওয়া আসা করতে হয়। এত গন্ধ যে মনে হয় অজ্ঞান হয়ে যাব। যত দিন যাচ্ছে ময়লা বাড়ছে। এসব ডিঙ্গিয়ে যাওয়া আশা করি।মেম্বার বলেন,এলাকার নিরীহ লোকেরা প্রতিদিন আমার কাছে বলে পচা-দুর্গন্ধে এখানে বসবাস করাটাই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। মেম্বার বলেন, এক বছর আগে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানের কাছে এ বিষয়টি বলছিলাম। বলার পরে-ও বন্ধ হয়নি এখানে ময়লা ফেলানো।বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আবদুল লতিফের ছেলে কবির হোসেন জানান, আমার বাড়ি এখানেই। অনেক সময় বাড়িতে গামছা দিয়ে নাক বন্ধ করে খাবার খেতে হয়। এসব বিষয়ে দেখার যেন কেউ নেই। ময়লা থেকে জন্ম নেওয়া মশা মাছিও এলাকাবাসীর দুর্ভোগের আরেক কারণ বলে জানান কবির হোসেন। শ্রীপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাসুম প্রধান বলেন,আমি শুনেছি এখানে রাতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন কাউন্সিলর।

এবিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোটেক সামসুল আলম প্রধান বলেন, এলাকার লোকজন এখানে ময়লা না ফেলানোর নিষেধ করেছিল।কিন্তু ওরা নিষেধ শোনে না। চেয়ারম্যান বলেন,বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা প্রশাসনের আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে কথা বলেছি। এই ময়লা যেন রাস্তার পাশে ফেলা না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিব। অতি শিগগির এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান চেয়ারম্যান।