সিরাজগঞ্জ পৌর নির্বাচন প্রচার প্রচারণায় আওয়ামীলীগ এগিয়ে শক্ত অবস্থানে বিএনপি

19

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : ১৫১ বছরের ঐতিহ্যবাহী সিরাজগঞ্জ পৌরসভার পৌর পিতা নির্ধারণে আগামী ১৬ জানুয়ারিতে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পৌরসভা ছাড়াও আগামী ১৬ জানুয়ারীতে বেলকুচি, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ ও কাজীপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিরাজগঞ্জ পৌরসভা মেয়র পদে ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও পৌরসভায় ১৫টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর ৮৫জন পদপ্রার্থী ও মহিলা কাউন্সিলর (সংরক্ষিত) ২৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা সিরাজী (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র টি.আর এম নূরে-আলম হেলাল (মোবাইল) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। ১৫১ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌরসভার ইতিহাসে এই সর্বপ্রথম নারী হিসেবে ২নং ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে মোছা: সুলতানা পারভীন স্বপ্না নির্বাচন করছেন। ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮নং ওয়ার্ডে কোন প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নুরুল হক নুরু বেসরকারিভাবে সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।

৩০ ডিসেম্বর ২০২০ইং তারিখে প্রতিক বরাদ্ধ হওয়ার সাথে সাথেই সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদপ্রার্থীসহ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের পোষ্টার, প্যানা ছেয়ে গেছে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে। প্রধান প্রধান সড়কের উপরে দড়ি দিয়ে পোষ্টার লাগানোর ফলে এসএস রোড, ফজলুল হক রোড, মুজিব সড়কসহ পৌরসভার সকল রোডে মালবাহী উচু ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে পারছে না। প্রবেশ করলেও পোষ্টারের দড়ি ছিড়ে যাওয়ার সম্ভবনায় উচু ভারী যানবাহনের চালকরা শুধু এমএ মতিন সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। শীতের কুয়াশায় পোষ্টারগুলো ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় সকল পোষ্টারের উপর দিয়ে পলেথিন দিয়ে মোড়ানো হয়েছে। এই নির্বাচনে পলেথিনের ব্যবহার ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুপুর ২টা থেকে রাত্রী ১০ টায় পর্যন্ত মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলরদের মাইকিং প্রচারণায় তীব্র শব্দ প্রকম্পিত হচ্ছে। পৃথক পৃথক মিছিল, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার শ্লোগানে মুখরিত পুরো পৌরসভা। চলছে ভোটারদের নানান রকম জল্পনা কল্পনা ও হিসাব নিকাশ। তবে গত সকল পৌর নির্বাচনে রিক্সা চালকরা রিক্সার হ্যান্ডেলের সাথে সমর্থনকারী প্রার্থীদের প্যানা নিয়ে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হলেও এবারের নির্বাচনে রিক্সা চালকদের মধ্যে সমর্থনকারী প্রার্থীদের প্যানা নিয়ে শ্লোগান শ্লোগান করতে দেখা যাচ্ছে না।

ইতিমধ্যে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে ১২জানুয়ারী পর্যন্ত বিকেল ৩টায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনসভায় ঘোষণায় দলে দলে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নৌকার জনসভা চলছে। জনসভা ছাড়াও সকাল থেকে গভীর রাত্রী পর্যন্ত চলছে গণসংযোগ, মিছিল। জনসভায় আওয়ামীলীগের প্রার্থীসহ নেতৃবৃন্দ বিগত ৫ বছরের পৌরসভায় উন্নয়নের কথা ও আগামীতে আরো ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্র“তি দিচ্ছেন।

এদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাইদুর রহমান বাচ্চু ১৫টি ওয়ার্ডে জনসভা না করলেও প্রচার গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। সকাল হলেই দেখা যাচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছে। ভোট প্রার্থনায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনসমুদ্রের মত বহর চলতে দেখা যাচ্ছে। ভোটারদের শুধু বলা হচ্ছে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করুন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী টি.আর এম নূরে-আলম হেলাল (মোবাইল) প্রতিক নিয়েও থেমে নেই। তিনি সকাল থেকে গভীর রাত্রী পর্যন্ত সমর্থনদের পাড়া-মহল্লায়, চা স্টলসহ বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের নিকট ভোট প্রার্থনা করছেন।

আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিগত সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জেও ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আগামীতে এই উন্নয়ন ধারাবাহিকতায় নৌকা মার্কায় ভোট দিন। আমি বিগত ৫ বছরে পৌর নাগরিকের সকল সুযোগ সুবিধায় পৌর এলাকায় সকল রাস্তা ঘাট, ড্রেনেজ, বিদ্যুতের বাতি, রিক্সা স্ট্যান্ড এর সুবিধা নিশ্চিত করেছি।

বিএনপি প্রার্থী সাইদুর ও রহমান বাচ্চু জনগণকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিলে অবশ্যই ধানের শীষ প্রতিক বিজয়ী হবে বলে মন্তব্য করে বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের মত জাতীয় নির্বাচনে ২৯ ডিসেম্বর রাতে নির্বাচন হলে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণœ করা হবে। গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা হবে। সরকারকে শুধু বলব, জনগণকে একটু ভোট দানের সুযোগ করে করে দিন।

স্বতন্ত্র টি.আর.এম নূরে-আলম হেলাল বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী ক্যাডার দিয়ে যেন জনগণের মৌলিক অধিকার ভোটাধিকার হরণ না করা হয়। পৌরবাসীর সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০০২ সালের মত আমাকে পৌরবাসী আমাকে আবার পুনরায় বিজয়ী করবে।

সহকারী রিটানিং অফিসার ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো: আজিজার রহমান জানান, সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় ১৫টি ওয়ার্ডে ৫৭টি কেন্দ্রে ৩০২ বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে। সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২৬ জন ভোটারে মধ্যে পুরুষ ৫৫ হাজার ৯২৮জন, মহিলা ৫৭ হাজার ৯৯৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

রিটারিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ তফাজ্জল হোসেন বলেন, দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১৬ জানুয়ারী সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় ব্যালট পেপারের মধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। মেয়র পদে ৩জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৮৫জন ও মহিলা কাউন্সিলর (সংরক্ষিত) পদে ২৯জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।