৮০ বছরে পা রাখলেন কিংবদন্তি অভিনেতা ,এটিএম শামসুজ্জামান

20

বিনোদন ডেস্ক : এটিএম শামসুজ্জামানের ৭৯ বছর পূর্ণ হলো। বৃহস্পতিবার তার জন্মদিন। এ হিসেবে ৮০ বছরে পা রাখলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এ কিংবদন্তি অভিনেতা, পরিচালক, কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা ও গল্পকার।

১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে এটিএম শামসুজ্জামানের জন্ম।

বিশেষ এ দিন বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে কাটাচ্ছেন অভিনেতা। সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি কখনো ঘটা করে জন্মদিন উদ্‌যাপন করিনি। জন্মদিন এলেই মনে হয়, জীবন থেকে আরও একটি বছর কমে গেল। আল্লাহপাক আরও একটি বছর দেখার সুযোগ দিলেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অনেক ভালো রেখেছেন। এখন বাড়িতেই নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছি।”

আরও বলেন, “ঘরে বসে অনেক সময় অনেককে দেখার ইচ্ছা হলেও দেখতে যেতে পারছি না। দূর থেকে সবার দোয়া আর ভালোবাসা চাই। আল্লাহ যেন সুস্থ রাখেন।”

এটিএম শামসুজ্জামান পড়াশোনা করেছেন ঢাকার পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলে।

পগোজ স্কুলে তার বন্ধু ছিল আরেক অভিনেতা প্রবীর মিত্র। ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে। তারপর জগন্নাথ কলেজ ভর্তি হন।

১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা, এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক।

এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন তিনি। প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করলেও ১৯৬৫ সালে অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি।

১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এটিএম শামসুজ্জামান। রেদওয়ান রনি পরিচালিত চোরাবালিতে অভিনয় করেন ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এ নিয়ে অভিনয়ের জন্য পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক।