দৈনিক জনবাণী | বাংলা নিউজ পেপার | Daily Janobani | Bangla News Paper
শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২

কুড়িগ্রামে সুপারির বাম্পার ফলন হলেও দামে হতাশ চাষিরা


জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২২, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের চলতি মৌসুমে সুপারির বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না থাকায় চরম হতাশায় ভুকছেন চাষিরা। 

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে দেখা গেছে, খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন দিন দিন এ অঞ্চলে বাড়ছে সুপারী চাষ। স্বল্প খরচে সুপারি চাষিরা অধিক লাভবান হওয়ায় বাড়ছে জনপ্রিয়তা। জেলা জুড়ে অধিকাংশ কৃষক পতিত জমিসহ নিজেদের বসতভিটায় সুপারীর বাগান করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চলতি মৌসুমে সুপারির বাম্পার ফলন ও দাম না থাকায় প্রান্তিক চাষিদের মুখে হাসি নেই। কারণ দেশের দক্ষিণ অঞ্চল সিলেট, যশোর, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় এবছর সুপারির চাহিদা না থাকায় সুপারির দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় সব চেয়ে কম। স্থানীয় বাজারে সুপারির ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় সুপারি চাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
 
উপজেলার ফুলবাড়ী বাজার, বালারহাট , গংগাহাট, কাশিপুর, বেড়াকুটি বাজার, খরিবাড়ীবাজার , নেওয়াশী বাজার ও বড়ভিটা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সুপারী কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন সুপারী চাষী ও ব্যবসায়ীরা। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় বাজার সুপারির দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বাজারগুলোতে সুপারি চাষিদের ভাষ্য মতে গত বছর যে সুপারীর পোন ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর সেই সুপারির পোন প্রতি যাচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। একটু বড় সাইজের সুপারির প্রতি পোন ২৫০ টাকা সর্ব উচ্চ দর। ফলে অর্ধেক দামও পাচ্ছেনা কৃষক।

ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা এলাকার সুপারী ব্যবসায়ী নবিউল ইসলাম জানান, এবছর সুপারীর ভাল ফলন হয়েছে। তাই এবছর সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে সুপারীর বাগান কৃষকদের কাছে ক্রয় করা হয়েছে। এমন দিনে স্থানীয় বাজারে গত বছর ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা সুপারীর পোন বিক্রি হতো। বাহিরে সুপারীর চাহিদা না থাকায় এ বছর এমন দিনে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পোন সুপারী বিক্রি হচ্ছে। তাই দাম না বাড়লে এবছর ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে।  

ফুলবাড়ী উপজেলার বালারহাট বাজারের সুপারি আড়তদার শাহজালাল ও সামচুল হক জানান, দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের সিলেট, খুলনা, কচুয়াসহ কয়েকটি জেলার আলা মজা সুপারীর ব্যাপক আমদানি ও রংপুর অঞ্চলে দেশি সুপারীর ফলন বেশি হওয়ায় সুপারির বাজারে ধস নেমেছে। গত বছর এমন দিনে ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৬ হাজার ৪০০ টাকা সুপারীর কাওন ছিল। এখন আমরা বাজারে ২৪০০ থেকে ৩২০০ টাকা কাওন সুপারী ক্রয় করে বাড়ীতে সুপারী মজার জন্য মাটিতে পোতে রাখছি। 

তারা আরও জানান, সরকার বিদেশ থেকে সুপারীর রং আমদানি না করে দেশে সুপারীর রং কারখানার ব্যবস্থা করলে সুপারী চাষীরা লাভবান হবে। তা না হলে সুপারী চাষিরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। জেষ্ঠ্য মাসের দিকে সুপারীর দাম কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ নিলুফা ইয়াছমিন জানান, ফুলবাড়ীতে ১১০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা সুপারীর চাষ করেছে। এবছর আশানুরূপ সুপারির ফলনও ভাল হয়েছে। তবে কি কারণে এ বছর সুপারীর দাম না থাকার কারণটা আমার জানা নেই। 

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রশিদ জানান, ফুলবাড়ীতে ব্যাপক সুপারী চাষ করেছে। সুপারীর সাথে চাষিরা পানও লাগিয়েছেন। এ জেলায় প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে সুপারী চাষ করেছেন প্রান্তিক চাষিরা। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের সিলেট, খুলনা ও যশোরের আলা মজা সুপারীর ব্যাপক আমদানি ও রংপুর অঞ্চলে দেশি সুপারীর ফলন বেশি হওয়ায় সুপারির দাম কম। 

তিনি আরও জানান স্থানীয় ভাবে প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র থাকলে সুপারী বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হতো এবং কৃষকরাও লাভবান হতো।

এসএ/  

আরও পড়ুন