দৈনিক জনবাণী | বাংলা নিউজ পেপার | Daily Janobani | Bangla News Paper
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২

ডাকঘরগুলো ডিজিটাল করা অপরিহার্য: ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২২, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

‍“ডিজিটাল বাণিজ্যের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাকঘর ডিজিটাল করা অপরিহার্য। ডিজিটাল যুগের উপযোগী ডাক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ডাকঘর ডিজিটাইজেশনের পথনকশা তৈরি সম্পন্ন হচ্ছে। ডাক ব্যবস্থাকে ডিজিটাইজ করার পাশাপাশি কর্মরত ৪৫ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীকেও ডিজিটাল দক্ষতা প্রদানের মাধ্যমে ডাকঘর ডিজিটাল করার কাজ আমরা শুরু করেছি।”

গতকাল সোমবার (২০ জুন) রাতে ঢাকা জিপিও মিলনায়তনে আয়োজিত ডাক অধিদপ্তরের বিদায়ী মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রীর আরো আহ্বান, ‘চিঠি আদান প্রদান যুগীয় ডাক ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলেও জনগণের দোরগোড়ায় ডকুমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য ডেলিভারির বিশাল চাহিদা পুরণে ডাকঘরকে উপযোগী করার চলমান কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেবার মনোভাব নিয়ে আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার।’

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. খলিলুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহা পরিচালক হারুন উর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিয়াজুল ইসলাম, সাবেক পোস্ট মাস্টার জেনারেল বাহিজা আক্তার, খুলনা রেঞ্জের পিএমজি মো. শামসুল আলম এবং ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক এসএম হারুনুর রশিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, “আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল চিঠিপত্রের যুগ শেষ হওয়ায় দুর্দশাগ্রস্থ ডাক সার্ভিসকে একটা ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। আমরা ইতোমধ্যে সেটা পেরেছি। ই-কমার্সের জন্য ডাকঘর এখন একটা নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।”

দেশব্যাপী ডাকঘরের যে বিশাল অবকাঠামো ও জনবল আছে তা দেশের অন্যকোন প্রতিষ্ঠানের নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “হিমায়িত খাবার থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় ক্রেতার হাতে পৌঁছে দিতে ডাকঘরের বিকল্প নেই। করোনাকালে কৃষকের ফল, সবজি পরিবহন থেকে শুরু করে চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে ডাক সেবার অবদান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘জরুরি সেবার আওতায় ডাকঘর একদিনের জন্যেও বন্ধ রাখা হয়নি।”

মন্ত্রী বলেন, “ডাকঘরকে ডিজিটাল যুগের উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রণীত ডিজিটাল সার্ভিস ডিজাইন ল্যাবের (ডিএসডিএল) প্রস্তাব ডিজিটাল ডাকঘর প্রতিষ্ঠায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এর ফলে উৎপাদনমুখী কর্মকাকাণ্ডের ডিজিটালাইজেশনের ভিত তৈরি হয়েছে।”

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব ডাকঘরকে ডিজটাল করার মাধ্যমে একটি উন্নত ডাকসেবা প্রতিষ্ঠায় গৃহীত কর্মপরিকল্পনা সফলতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নিরলসভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বিদায়ী মহাপরিচালকের কর্মপ্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

বিদায়ী মহাপরিচালক তাঁর দীর্ঘ চাকুরী জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু স্মৃতি ব্যক্ত করেন। তিনি তার মহাপরিচালকের দায়িত্বকালীন সময়ে ডাকঘরকে ডিজিটাল করতে একজন প্রকৃত অভিভাবক হিসেবে মন্ত্রীর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন চিন্তা এবং তার আলোকে গৃহীত কর্মসূচির প্রশংসা করেন।

এসএ/

আরও পড়ুন